"জ্ঞান ও ধর্মের পরিপূর্ণতার পথে"

ইখওয়ান ছিল মূলত মরুভূমির সেই দুর্ধর্ষ বেদুইনদের নিয়ে গঠিত একটি উগ্র মিলিশিয়া বাহিনী, যাদের ইবনে সউদ ওহাবি মতাদর্শের কড়া ডোজ দিয়ে নিজের ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। ১৯১০-এর দশক থেকে এই বাহিনীই ইবনে সউদের হয়ে রিয়াদ, নজদ এবং পরবর্তীতে পবিত্র মক্কা-মদিনা (হেজাজ) দখলের জন্য অকাতরে রক্ত দিয়েছে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন ইবনে সউদ ব্রিটিশদের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা করে নিজের রাজতন্ত্রকে স্থিতিশীল করতে চান। ইখওয়ানদের মগজে যেহেতু ‘নিরবচ্ছিন্ন জিহাদের’ বীজ বুনে দেওয়া হয়েছিল, তাই তারা ব্রিটিশদের পেন্সিল দিয়ে আঁকা ইরাক, কুয়েত ও জর্ডানের সীমানা মানতে অস্বীকার করে এবং সেগুলোতে হামলা চালিয়ে ব্রিটিশদের চক্ষুশূল হয়। ইখওয়ানরা মনে করতে শুরু করে যে, ইবনে সউদ খিলাফত কায়েমের নাম করে আসলে ব্রিটিশদের দালালি করছেন এবং টেলিফোন, রেডিও বা টেলিগ্রাফের মতো ‘শয়তানি উদ্ভাবন’ (আধুনিক প্রযুক্তি) রাজ্যে ঢুকিয়ে ইসলামকে কলুষিত করছেন। তাদের কাছে ইবনে সউদ ছিলেন একজন ‘বিপথগামী’ শাসক, যিনি উম্মাহর স্বার্থের চেয়ে নিজের গদি আর ব্রিটিশদের তুষ্ট করাকে বড় করে দেখছেন। এই আদর্শিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যখন তুঙ্গে পৌঁছায়, তখন ইখওয়ানরা সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করে। কিন্তু ইবনে সউদ ছিলেন আরও বেশি ধূর্ত; তিনি জানতেন এই দুর্ধর্ষ বাহিনীকে তলোয়ার দিয়ে হারানো অসম্ভব। তাই ১৯২৯ সালের সাবিল্লা যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের সরবরাহ করা আধুনিক মেশিনগান আর যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে নিজের সেই পুরনো অনুগত ইখওয়ানদের মরুভূমির বালিতে পিষে ফেলেন। এই ঘটনার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, ইবনে সউদের কাছে ধর্ম বা তাঁর অনুগত যোদ্ধাদের জীবনের চেয়েও নিজের ‘পারিবারিক রাজতন্ত্র’ বা ফ্যামিলি বিজনেস টিকিয়ে রাখাটাই ছিল আসল লক্ষ্য।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান