কিছু মানুষ থাকেন, যারা শুধু ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর জন্য জন্মান না—তারা নিজের জীবন দিয়ে ইতিহাস গড়েন। সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় ছিলেন তেমনই একজন শাসক। উসমানীয় সাম্রাজ্যের শেষ মহান সুলতান, যিনি একাই লড়াই করেছিলেন মুসলিম উম্মাহর জন্য।
যখন চারপাশ থেকে আঘাত আসছিল…
সেই সময় উসমানীয় সাম্রাজ্য ভেতর থেকে দুর্বল, বাইরে থেকে ইউরোপিয়ান শক্তিগুলো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত। পশ্চিমারা শুধু সাম্রাজ্যটা নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল। আর ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়ালেন একজন সুলতান, যিনি বললেন—
“আমি আমার ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারি, কিন্তু মুসলমানদের ঐক্য কখনো বিসর্জন দেব না।”
কিন্তু শত্রুরা শুধু বাইরেই ছিল না, নিজেদের মধ্যেও বিশ্বাসঘাতক ছিল, যারা তার হাত শক্ত করার বদলে দুর্বল করতে ব্যস্ত ছিল।
ফিলিস্তিনের জন্য তার শেষ কথা
ইহুদি লিডার থিওডোর হার্টজল এসে যখন প্রস্তাব দিলেন—
“আমরা যদি উসমানীয় সাম্রাজ্যের ঋণ শোধ করে দিই, তাহলে ফিলিস্তিন আমাদের দিন।”
সুলতান তখন যে উত্তর দিয়েছিলেন, তা আজও ফিলিস্তিনের প্রতিটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণা—
“আমার দেহ কেটে টুকরো টুকরো করা যাবে, কিন্তু ফিলিস্তিনের এক ইঞ্চিও বিক্রি হবে না।”
তিনি জানতেন, আজ যদি এই জমি তুলে দেওয়া হয়, তাহলে একদিন এখানেই মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশাল ষড়যন্ত্র হবে। আর আজকের বাস্তবতা প্রমাণ করে—তিনি ভুল ছিলেন না।
সব হারিয়ে দিয়েও অটল ছিলেন
তার শাসনকালে তিনি শুধু রাজনীতি করেননি, মুসলমানদের উন্নতির জন্য কাজ করেছেন। তিনি হিজাজ রেলওয়ে তৈরি করেন, যা মক্কা-মদিনার সাথে মুসলিম বিশ্বকে সংযুক্ত করেছিল। তিনি শিক্ষা, প্রযুক্তি, এবং সেনাবাহিনীকে আধুনিক করতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, শত্রুরা সফল হলো। তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বন্দি করা হলো। যিনি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের সুলতান ছিলেন, তাকে রাখা হলো এক সাধারণ ঘরে, পাহারায় শত্রুরা।
কিন্তু এই বন্দিদশাতেও তিনি মাথা উঁচু করে বললেন—
“একদিন ইতিহাস আমাকে ন্যায়বিচার দেবে।”
আজ যখন মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত, যখন ইসলামের শত্রুরা চারপাশ থেকে আঘাত করছে, তখন আমরা বুঝতে পারি—সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয় আমাদের জন্য কত বড় আশীর্বাদ ছিলেন।
শেষ কথা
আজ যদি সুলতান আব্দুল হামিদ বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো মুসলিম উম্মাহ এতটা দুর্বল হতো না।
তিনি চলে গেছেন, কিন্তু তার কথাগুলো আজও জীবন্ত। ইতিহাস তাকে ভুলতে পারেনি, আমরা কি পারব? না, কখনই না।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান