প্রিয় বোনেরা,
আজকের সমাজে নারীদের ওপর সৌন্দর্যের এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতার চাপ দেখা যায়। আমরা প্রায় সবাই চাই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, এই দুনিয়ার সাময়িক সৌন্দর্য কি সত্যিকার অর্থে আমাদের আসল মূল্য নির্ধারণ করতে পারে?
ইসলামে নারীদের মর্যাদা অপরিসীম। ইসলাম নারীদের আসল সৌন্দর্যকে বাহ্যিক রূপ বা চেহারার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং তাদের চারিত্রিক গুণাবলি, নৈতিকতা, এবং ইমানের ভিত্তিতে বিচার করে। আল্লাহ আমাদের কাজগুলো এবং আমাদের নিয়তকে বিচার করবেন, বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়। চেহারার এই সৌন্দর্য, যা আমরা এত যত্ন করে ধরে রাখতে চাই, তা কবরের মাটির নিচে আর কোনো কাজে আসবে না।
প্রিয় বোনেরা, অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে যদি আমরা আল্লাহর নির্দেশনাকে ভুলে যাই, তাহলে পরকালে এর ফলাফল কেমন হবে? আমাদের এই জীবন আসলে আখিরাতের প্রস্তুতির জন্য। তাই বাহ্যিক সৌন্দর্যের পেছনে ছুটে, আখিরাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যাওয়া কি বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
সৌন্দর্য নিজে থেকে কোনো সমস্যা নয়, তবে যখন এটি মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে, তখন সেটাই চিন্তার বিষয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, আসল সৌন্দর্য হলো তাকওয়ার সৌন্দর্য—যা আল্লাহর ভয়, ভালো কাজ, এবং নৈতিকতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এই সৌন্দর্য কখনো মলিন হয় না, বরং আমাদের পরকালেও শান্তি এনে দেয়।
তাই প্রিয় বোনেরা, আসুন আমরা আমাদের দৃষ্টি বাহ্যিক সৌন্দর্যের বদলে আভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যের দিকে ফিরিয়ে আনি। আল্লাহর হুকুম মেনে জীবনকে সাজাই, যাতে আমরা এই দুনিয়া এবং আখিরাত দুই জগতেই সফল হতে পারি। কবরের সেই একাকী সময়ে, আমাদের সত্যিকার সৌন্দর্য—আমাদের ইমান ও আমলই আমাদের শান্তি এনে দেবে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন। আমিন!
© সাদিয়া।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান