"জ্ঞান ও ধর্মের পরিপূর্ণতার পথে"

জীবনের প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো সময় কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। সেই কঠিন মুহূর্তগুলোতে আমরা প্রায়ই হতাশ ও দিশেহারা বোধ করি, মনে হয় যেন জীবন থমকে গেছে। কিন্তু আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, “নিশ্চয় কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি” (সূরা আশ-শারহ: ৫-৬)। এই আয়াতের মাধ্যমে তিনি আমাদের বুঝাতে চেয়েছেন যে, যেকোনো কষ্টের শেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সহজতার সময় আসে, একটি মুক্তির সময় আসে।

কষ্ট এবং তার প্রয়োজনীয়তা

কষ্ট আমাদের জীবনেই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা অনেক সময় ভাবি, কেন আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন? কেন তিনি আমাদেরকে কষ্টের মধ্যে ফেলেন? আসলে কষ্ট আমাদের জন্য একটি পরীক্ষাস্বরূপ। আল্লাহ আমাদের হৃদয়কে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের বিশ্বাসকে আরও মজবুত করতে কষ্ট দেন। এই কষ্টের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের শিক্ষার পাঠ এবং আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি।

যেমন আল্লাহ বলেন:

“তোমরা কি ভেবেছিলে যে, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথচ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মতো পরীক্ষা করা হবে না?” (সূরা আল-বাকারা: ২১৪)

কষ্টের মধ্যে আল্লাহর রহমত

আমরা যখন কোনো কষ্টের মধ্য দিয়ে যাই, তখন সেটি আমাদের জন্য একটি সেতুর মতো কাজ করে—কষ্ট থেকে স্বস্তির পথে। প্রতিটি বিপদের সময়েই আল্লাহর রহমত লুকিয়ে থাকে। আমরা যতই ব্যথিত হই না কেন, আল্লাহ আমাদের সেই কষ্ট থেকে মুক্তির পথ দেখান। আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয় এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হয়।

কুরআনের এই আয়াতটি আমাদের জানায়, “নিশ্চয় কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি।” এটি এক অর্থবহ প্রতিশ্রুতি। আল্লাহ আমাদের কখনও শুধু কষ্টের মাঝে ফেলে রাখেন না। তিনি আমাদের জন্য সবসময় সহজতার দরজা খুলে দেন। কিন্তু সেই দরজা খোলার আগে আমাদের কিছু শেখার বা অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রয়োজন হতে পারে।

ধৈর্যের পরীক্ষায় সাফল্য

কষ্টের সময়ে ধৈর্য ধারণ করাই একজন মুমিনের আসল পরীক্ষা। আল্লাহ আমাদের বলেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।” (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

ধৈর্যের সাথে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে চলা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ কখনো আমাদের এমন কোনো কষ্ট দেন না, যা আমাদের জন্য সহ্য করা অসম্ভব। প্রতিটি কষ্টের শেষে স্বস্তি আসবে, এবং আমাদের কাজ হলো ধৈর্যের সাথে সেই সময়টির জন্য অপেক্ষা করা।

কষ্ট এবং স্বস্তির চক্র

জীবন আসলে একটি চক্রের মতো। এখানে কষ্ট আসবে, তারপর সেই কষ্টের মধ্য থেকে সহজতার পথ খুলে যাবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা আমাদের ধৈর্যশীল ও প্রজ্ঞাবান করে তোলে। কষ্টের সময়ে আমরা অনেক সময় আল্লাহর নিকটে আরও বেশি আসার সুযোগ পাই। এই সময়গুলো আমাদের ইবাদত, দোয়া এবং আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়।

আল্লাহ যখন আমাদের কষ্ট দেন, তখন সেটি শুধুমাত্র আমাদের শক্তিশালী করে তোলার জন্য। আর যখন সেই কষ্টের পরে স্বস্তি আসে, তখন আমরা বুঝতে পারি যে, আল্লাহ আমাদের জন্য যে পথ নির্ধারণ করেছেন, সেটিই আমাদের জন্য সর্বোত্তম।

শেষ কথা

“নিশ্চয় কষ্টের সাথে রয়েছে স্বস্তি”—এই আয়াতটি আমাদের জীবনের চলার পথে প্রেরণা দেয়। এটি আমাদের শেখায় যে, দুনিয়ার কোনো কষ্টই চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহর রহমতে আমরা সবসময় নতুন দিনের সূর্যের আলো দেখতে পাই। আমাদের কাজ হলো আল্লাহর উপর ভরসা রাখা, ধৈর্য ধরা, এবং এই বিশ্বাসে অবিচল থাকা যে, প্রতিটি কষ্টের পরেই আল্লাহ আমাদের জন্য স্বস্তির পথ তৈরি করে রেখেছেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কষ্টের সময়ে ধৈর্যশীল থাকার তাওফিক দান করুন এবং তাঁর রহমতের ছায়ায় প্রশান্তি লাভ করার সুযোগ দিন।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান