
কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, “অবশ্যই বিশ্বাসীরা সফল হয়েছে” (সূরা মুমিনূন, আয়াত ১)। এই আয়াতটি আমাদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যেখানে সাফল্যের প্রকৃত সংজ্ঞা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিদিন আমরা নানা রকম সাফল্যের পেছনে ছুটছি—অর্থ, পদমর্যাদা, খ্যাতি। এগুলো আমাদের দুনিয়ার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত সাফল্য একমাত্র ঈমানের মধ্যে নিহিত। এই সাফল্য এমন একটি অর্জন, যা কেবল দুনিয়ায় নয়, আখিরাতেও অনন্ত শান্তি ও পুরস্কার বয়ে আনে।
বিশ্বাসীদের প্রকৃত সাফল্য
মুমিন বা বিশ্বাসীদের সাফল্য একদিনে অর্জিত হয় না। এটি হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া, যেখানে একজন মুমিন তাদের বিশ্বাস, কাজ, ও আচরণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।
১. আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা: সাফল্যের মূল ভিত্তি হলো ঈমান। আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ও ভরসা স্থাপনই একজন মুমিনের পথচলার প্রথম ধাপ। আল্লাহ বলেন, “যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য আছে চিরকালীন জান্নাত।” (সূরা কাহফ, আয়াত ১০৭)।
২. সৎকর্মের দ্বারা সাফল্য অর্জন: কেবল বিশ্বাস থাকলেই হবে না, সেই বিশ্বাসের সাথে আমাদের কাজের মধ্যে সৎকর্ম ও আদর্শ চরিত্রের প্রমাণ থাকতে হবে। একজন মুমিন আল্লাহর রাসূল (সা.) এর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, অন্যদের সঙ্গে ন্যায়, সম্মান ও সহমর্মিতার আচরণ করে।
৩. ধৈর্য ও নামাজে দৃঢ়তা: একজন মুমিনকে অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়, কিন্তু তারা সবসময় ধৈর্য ধরে এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। কুরআনে বলা হয়েছে, “ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, নিশ্চয়ই নামাজ মুমিনদের জন্য কষ্টকর নয়।” (সূরা বাকারা, আয়াত ৪৫)।
সাফল্যের মাপকাঠি
আমরা প্রায়ই দুনিয়াবি মাপকাঠিতে সাফল্যকে মাপি—অর্থ, সুনাম, পেশাগত উন্নতি। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য আসল সাফল্য এসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আসল সাফল্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখিরাতে জান্নাতের অধিকারী হওয়া।
প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজেও সাফল্য লুকিয়ে আছে। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন, অন্যকে সাহায্য করা, ধৈর্য ধরা, নামাজ কায়েম করা, কুরআন তিলাওয়াত করা—এইসবই আমাদের সাফল্যের পথ দেখায়।
আল্লাহর প্রতিশ্রুতি
আল্লাহ মুমিনদের জন্য যে সফলতার কথা বলেছেন, সেটি শুধুই আখিরাতের জন্য নয়। এই সফলতা দুনিয়াতেও প্রতিফলিত হয়, কারণ আল্লাহ বলেন, “যে আল্লাহকে ভয় করে এবং সবর করে, আল্লাহ তাকে উপহার দেন এমন জায়গা থেকে যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” (সূরা তালাক, আয়াত ২-৩)।
উপসংহার
সুতরাং, একজন মুমিনের জীবনে সাফল্যের প্রকৃত রূপ হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান, সৎকর্ম, ধৈর্য এবং নামাজে দৃঢ়তা। এই গুণাবলী নিয়ে পথ চলতে পারলেই, একজন মুমিন দুনিয়া ও আখিরাত উভয়েই সফল হতে পারে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত সাফল্য অর্জনের তৌফিক দান করুন এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তার প্রতি ভরসা করার তৌফিক দিন।
“অবশ্যই বিশ্বাসীরা সফল হয়েছে”—এই বার্তাই আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র হওয়া উচিত।

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান