"জ্ঞান ও ধর্মের পরিপূর্ণতার পথে"

বছর দশেক আগের কথা। পুরোনো কর্মস্থলে, আমার অধীন অল্পবয়সী একজন নারী সহকর্মী, তার তিন সন্তান। তিনজনেরই জন্ম বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক থেকে। তিনজনেরই বাবা আলাদা। 

একদিন কাঁদতে কাঁদতে এসে বললো, “সোহেল আমাকে এক্ষুনি ছুটি দিতে হবে, বাসায় যেতে হবে।”

বললাম, “ছুটি দেবো কোন সমস্যা নাই। তুমি বসো, শান্ত হও! কী হয়েছে বল!”

মেয়েটা জানালো, তার তৃতীয় বয়ফ্রেণ্ড, যে তাকে ফেলে চলে গেছে, সে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিসে ফোন করে বলেছে যে, বাচ্চার মা বাচ্চাদের যথেষ্ট যত্ন করে না, ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করায় না, এমনকি ঘরে বাচ্চাদের জন্য ঘরে খাবারও থাকে না। তাই চাইল্ড ওয়েলফেয়ার সার্ভিস থেকে বাসায় লোকজন এসেছে, বাসায় খাবার দাবার আছে কিনা, বাচ্চাদের যত্ন ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা, তদন্ত করতে। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বাচ্চাদের নিয়ে যাবে।

অথচ একজন বয়ফ্রেণ্ডও তাকে আর্থিক সাহায্য দেয় না। মেয়েটা বাচ্চাগুলোকে ডে-কেয়ারে রেখে এসে কাজ করে। 

মেয়েটার বয়স পঁচিশ। এই পঁচিশ বছর বয়সে কী সীমাহীন চেষ্টা মেয়েটার একটা নিরাপদ জীবন পাবার। একেকজন বয়ফ্রেণ্ড চলে যায়, মন ভেঙ্গে যায় তার। মানুষের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। কিছুদিন গেলে, আবার সাহস করে বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করে সে। চেষ্টা করে আরেকজন নির্ভরযোগ্য জীবন সঙ্গী খুঁজে পাবার, যে তার পাশে দাঁড়াবে, নিরাপত্তা দিবে। কিন্তু বারবার আশাহত হতে হয় তার।

সে জানেনা, এই নিষ্ঠুর সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থা, তার জীবনের শান্তি আর নিরাপত্তা চিরতরে কেড়ে নিয়েছে।

“সেক্যুলার সমাজ ব্যবস্থা।” এ একটি মন্তব্য

এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান